ভাই ভাই

মাছের রাজা বোয়াল। রাজার মতো রাজা। যেমন নাম তেমন কাম। নদীর যত মাছ সব তার প্রজা। তার কথায় ওঠে বসে।

এহেন রাজা রাঘব বোয়াল, তার মা গেল মারা। মা থাকলে মরবেই। যার মা নেই, একমাত্র তারই মা মরে না। সবাই এই বলে রাজাকে সান্ত্বনা দিল। রাজা বললেন, মায়ের শ্রাদ্ধে এমন খাওয়া খাওয়াও, যা কেউ জন্মে দেখে নি। আমি রাজা, আমার কাছে বড়-ছোট ধনী-গরীব ভেদ নেই। আমি সবাইকে নেমন্তন্ন দেব। রাজ্যের এক দিক থেকে আর এক দিক পর্যন্ত ঢোল পড়ল।

শোন শোন মৎস্যগণ, করি নিবেদন—

রাজ-জননীর হইল পরলোক গমন (ঢ্যান্ ঢ্যান্ ঢ্যান্)

তার স্বর্গ কামনায় ভোজন উৎসব (ঢ্যান্ ঢ্যান্)

বড় ছোট ভেদ নাই, চলে এসো সব। (ঢ্যান্ ঢ্যান্)

আবাল বনিতাবৃদ্ধ সবাই আসিবে

যার যতদূর শক্তি উদরে ঠাসিবে

(ঢ্যান্ ঢ্যান্ ঢ্যান্ ঢ্যান্ ঢ্যান্ ঢ্যান্)

এমন আরও অনেক ভালো ভালো কথা তারা বলল। সমস্ত রাজ্যে ধন্য ধন্য রব পড়ে গেল। সবাই বলল, সত্য ত্রেতা স্বাপরমে এ্যায়সা কাম কোনই নেহি কিয়া। আপতো রাজচক্রবর্তী হেয়। মা বাপ তো কত জনারই মরে। কিন্তু মার জন্য এমন কে করে? রাজা শুনে মহা খুশি।

৪ঠা আশ্বিন, মঙ্গলবার। দলে দলে মাছ আসতে লাগল। যেখানে যে ছিল কেউ বাদ পড়ল না।

রুহিত কাতল আইড় ভেটকি চিতল

ইলিশ খলিশা কই চলে দলে দল।

পুঁটি, চাঁদা, কাচ্ কিরা কাতারে কাতার

বেঁহুশ হইয়া সবে মারিল সাঁতার।

কারু আজ ভয় নেই। রাজার হুকুম জারী করা আছে। আজকের দিনের জন্য কোনো মাছ কোনো মাছকে খেতে পারবে না, কামড়াতে পারবে না, এমনকি টু-টাও মারতে পারবে না। আজ সব মাছ ভাই ভাই।

বড় খানা কিনা, খেতে অনেক দেরী হবে। তাই সবাই দল বেঁধে জটলা করছে। সমাজের এত বড় মেলা আর কোনদিন তো বসেনি। বড় আনন্দের দিন। রুই মাছ পুঁটি মাছের ঘা ঘেঁষে বলে, কি ভাই, কেমন আছ? পুুঁটির বুকটা ধুক ধুক করতে থাকে। কিন্তু না, আজ কোনো ভয় নেই। পুঁটি কোনো মতে ঢোক গিলে নিয়ে বলে, ভালো আছি রুইদা, তুমি ভালো তো? বউদির খবর ভালো?

রুই-এর জিভের জল টস্ টস্ করে পড়তে থাকে, তবু কোনো মতে সামলে রাখে। আজ যে অহিংসা আর ভালোবাসার দিন।

গলদা চিংড়িদের জওয়ান ছেলেটার কানেও নেমন্তন্নের খবর গিয়ে পৌঁছেছে। সে স্বকর্ণে ঢোলের বাড়ি শুনেছে। সব মাছেরই যখন নেমন্তন্ন, চিংড়ি মাছই বা বাদ পড়বে কেন? ছেলেটা বড় পেটুক, নেমন্তন্নের গন্ধ পেয়ে বাড়ির সবাইকে কোনো কথা না বলে সোজা চলে এসেছে। সে যখন তার লম্বা লম্বা পা ফেলে আসরের মাঝখানে এসে দাঁড়াল, তাকে দেখে মাছেদের মাঝে একটা হৈ চৈ রৈ রৈ পড়ে গেল। এমন বিদঘুটে মূর্তি দেখে মাছদের ছানারা মায়ের পেটের তলায় সেঁদিয়ে পড়ল। তার দিকে তাকিয়ে কেউ বলল, এটাকে চিনি না তো! কেউ বলল চিংড়ি, কেউ বলল চিংড়ি মাছ, কেউ বলল ইচা। নানা জনে নানা কথা বলতে লাগল। তবে মাছেদের মধ্যে ঝানু যারা, তারা ওর নাম ধাম বংশ-পরিচয় সব কিছুই জানে।

এই রকম একজন প্রাচীন মুরুব্বিমত মাছ এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, তুমি কে হে? মাছের বাড়ির নেমন্তন্নে তুমি কেন? তোমাকে কে ডেকেছে?

ছোকরা চটপট জবাব দিল, আমি? আমি চিংড়ি মাছ গো। কে ডেকেছে মানে? তোমরাই তো ঢোল দিলে ছোট-বড় ভেদ নেই, সব মাছের নেমন্তন্ন। তাই তো এলাম।

তোমার পদবী?

গলদা।

হু, কিন্তু তুমি-যে মাছ, এ কথা কে তোমাকে বলেছে?

আরে, কে আবার বলবে, কার নাম করব? চিংড়ি মাছকে সবাই চিংড়ি মাছই বলে থাকে।

যারা

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice